মাশরুমের উপকারিতা!

#মাশরুমের উপকারিতা: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। সম্মানিত ভাই ও বোনেরা আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই সুস্থ ও সবল আছেন। আমিও অনেক ভালো আছি। করণা পরিস্থিতিতে আপনারা সচেতন থাকুন নিজ নিজ ঘরে থাকুন এবং নিজ নিজ পরিবারের খেয়াল রাখুন। আজকে আলোচনা করব মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে।

আমাদের পরিবেশ এর আশেপাশে অনেক উপাদান রয়েছে যেগুলো আমাদের খুবই উপকার করে থাকে কিন্তু আমরা সে উপাদান গুলো সম্পর্কে অবগত হয় না। মাশরুম আমাদের আশেপাশে পাওয়া যায় কিন্তু এর উপকারিতা সম্পর্কে কেউ বিশদভাবে জানে না। তো চলুন, মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে জানা যাক।

মাশরুমের উপকারিতা

মাশরুম আমাদের অনেক ধরনের উপকার করে থাকে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। তাই আপনারা মাশরুমকে গুরুত্ব দেবেন এবং যত্নসহকারে চাষ করবেন। আজ আমরা আলোচনা করব মাশরুমের উপকারিতা নিয়ে। মাশরুমের উপকারিতা নিচে সিরিয়ালি বিশদ ভাবে আলোচনা করা হলো। মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ রইল।

১. মাশরুম খেতে সুস্বাদু

মাশরুম খেতে যেমন সুস্বাদু, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে তার থেকে বেশি উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাশরুম রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে খেয়াল রাখবেন আশেপাশে কোনো জায়গায় যে মাশরুম পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন।

মাশরুম খেতে হলে অবশ্যই চাষ করে খেতে হবে। মাশরুমে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল, অ্যামাইনো এসিড, এন্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ইত্যাদি। তাই মাশরুমের এসব উপাদান ডায়াবেটিস ক্যান্সার ইত্যাদি রোগের অনেক উপকার করে থাকে। তাছাড়াও ওজন কমাতে বা চর্বি বা মেদ কমানোর জন্য মাশরুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মাশরুমে কোনো চর্বি বা শর্করা নাই এর ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই কার্যকরী একটি খাবার। মাশরুম আমাদের শরীরের রক্তে চর্বি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে এবং চুল পড়া বা চুল পাকা প্রতিরোধ করতে অনেক সাহায্য করে।

আমরা প্রতিনিয়ত যে সব খাবার খেয়ে থাকি, তার থেকে আমার মনে হয় মাশরুমের উপকারিতা বেশি। তাই আপনারা নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

মাশরুম খেলে আমাদের শরীরের যেকোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক পরিমাণে বেড়ে যায়। আমরা যেসব খাবার খায় তার থেকে মাশরুমের সবথেকে বেশি ভিটামিন ও মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকে।

এগুলো আমাদের শরীরের যেকোনো ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং আমাদের শরীরকে সুস্থ সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

মাশরুম আমাদের শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। মাশরুমের সোডিয়ামের পরিমাণ খুবই কম থাকে এবং একটি আঁশযুক্ত তো তাই এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে; যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। এর ফলে আমাদের হৃদপিণ্ড সুস্থ ও সবল থাকে।

৪. ওজন কমায়

যাদের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি আছে তারা ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন। মাশরুম আমাদের শরীরের রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সাধারণত ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল প্রয়োজন। তাই মাশরুম তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাশরুমে এগুলো অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

মাশরুমে এনজাইম ও প্রাকৃতিক ইনসুলিন থাকে যা চিনিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

৫. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি করে

মাশরুম খেলে আমাদের হাড়ের শক্তি বেড়ে যায়। কারণ মাশরুমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম। তা ছাড়াও হাড়ের ব্যথা কমাতে এবং হাড়ের যেকোনো ধরনের রোগ প্রতিরোধে মাশরুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনারা মাশরুম বেশি বেশি পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

৬. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

মাশরুম খেলে আমাদের ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। স্তন ক্যানসার এবং প্রস্টেট ক্যান্সার এর প্রতিরোধ গড়তে মাশরুম অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মাশরুমে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যাল যা টিউমারের বৃদ্ধি পেতে বাধাগ্রস্ত করে। তা ছাড়া মাশরুমে খেলে আমাদের ত্বক অনেক সুস্থ থাকে।

কারণ মাশরুমে রয়েছে নিয়ে আসেন এবং রিবোফ্লাভিন যা আমাদের ত্বককে বিভিন্ন রকম ইনফেকশন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া মাশরুমে 80 থেকে 90 ভাগ পানি থাকে এজন্য আমাদের ত্বক কোমল ও নরম থাকে।

৭. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

মাশরুম খেলে আমাদের হজম শক্তির জন্য খুবই কাজ করে থাকে। মাশরুমে রয়েছে ফাইবার ও এনজাইম যা হজমের জন্য খুবই উপকার করে। এই উপাদান আমাদের অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং কোলনের পুষ্টি উপাদান শোষণ বৃদ্ধি পেতে অনেক সাহায্য করে থাকে।

তা ছাড়া মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন বি। এটা খুবই উপকারী এবং বয়স জনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে অনেক সাহায্য করে থাকে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি শিশুদের দাঁত ও হাড় গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তা ছাড়াও হেপাটাইটিস-বি জন্ডিস প্রতিরোধ করতে মাশরুম খুবই উপকার করে থাকে। মাশরুমে থাকা নিউক্লিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, সোডিয়ামের পরিমাণ কমানোয় কিডনির রোগ ও এলার্জি রোগের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে মাশরুম।

তাই বলা যায় মাশরুমের উপকারিতা এর কোনো শেষ নাই। তাই প্রতিদিন মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস করুন। কাঁচা এবং শুকনো মাশরুম 15 থেকে 20 মিনিট ফোটানো গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে, ভালোভাবে ধুয়ে পানি ফেলে দিয়ে সবজির মতো করে তরকারি বা মাছ গোশতের মধ্যে দিয়ে রান্না করে নিয়মিত খেতে থাকুন।

ওপরে আপনারা মাশরুমের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। আপনারা নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস করুন। আজ এখানেই শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here