পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায়!

#পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায়: আসলামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আল্লাহর রহমতে আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহর রহমতে আমিও অনেক ভালো আছি। আজকে পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায় নিয়ে কথা বলব। পেটের অতিরিক্ত মেদ যেকোনো মানুষের জন্য খুবই অস্বস্তিকর একটি বিষয়।

পেটের মেদ অনেক বেড়ে গেলে দেখতে অনেক খারাপ লাগে এবং কোনো কাজই শান্তি মতো করা যায় না। ঠিক মতো হাঁটা চলা ও দৌড়ানো যায় না।

অতিরিক্ত মেদওয়ালা ব্যক্তিদের সমাজে সবার কাছে হেয় হতে হয়। এটি নারী-পুরুষ উভয়েরই হয়ে থাকে। মহিলাদের সাধারণত ডেলিভারি হওয়ার পর পেটে অনেক মেদ জমে যায়। এই মেদ কমানোর জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অতি জরুরি।

তো, চলুন এই পোস্টে আমরা- পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায় গুলো, বিশেষ করে ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায়

মেদ সবাই কমাতে চায়। বাসায় বসেই কমানো যাবে মেদ। আর বাসায় বসে নিজে নিজে যদি কিছু নিয়ম-কানুন ও খাবারের পরিবর্তন আনতে পারেন তাহলে পেটের মেদ অনেকটা কমে যাবে।

তাই নিচে পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। আশা করি আপনারা এগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং যথাযথ মেনে চলবেন।

১. মধু এবং লেবু খান

পেটের মেদ কমানোর জন্য মধু ও লেবু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এটি খেতে যেমন সুস্বাদু এর, গুণ তার থেকেও অনেক বেশি। মধু ও লেবুর রয়েছে ডিটক্স এর ক্ষমতা যা ফ্যাট বা মেদ কমাতে অনেক সাহায্য করে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবু মিশিয়ে খেয়ে নিন। এটি খাওয়ার আধাঘণ্টা হওয়ার পরে অন্য কিছু খান। এটি খাওয়ার আধাঘণ্টার আগে বা পরে কিছু না খাওয়ার পরামর্শ রইল।

২. গ্রিন টি খান

মেয়েদের ডেলিভারি হওয়ার পর পেটে অনেক মেদ জমে এই মেয়ে বা চর্বি দূর করার জন্য গ্রিন টি অনেক ভালো কাজ করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা ফ্যাট কমানোর জন্য গ্রিন টি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাফিন এবং ক্যাটাগ্রম নামক একটি ফ্লাভিন অ্যাসিড। এই দুইটি শরীরের মেটাবলিসম বাড়িয়ে দেয় আর এই মেটাবলিজম শরীরের মেদ কমাতে সাহায্য করে থাকে।

৩. আপেল খান

পেটের চর্বি বা মেদ কমানোর জন্য আপেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপেলের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোটিন যা ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে থাকেন। আরও রয়েছে ফাইবার জাতীয় খাবার হওয়ার হজমের প্রক্রিয়াকে ধীরে করে অনেকক্ষণ পেট ভর্তি রাখে। তাই নিয়মিত আপেল খাওয়ার পরামর্শ রইল।

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

ফ্যাট কমানোর জন্য পানি পান করা অতি জরুরি। পানি শুধু আমাদের তৃষ্ণা মেটাতে সাহায্য করে না এটি আমাদের ফ্যাট বা চর্বি কমাতে অনেক সাহায্য করে থাকে। পেটের কারণে শরীরে টক্সিন জমা হয়ে থাকে এগুলো সরাতে পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের নিয়মিত পরিমাণ মতো পানি পান করা অতি জরুরি।

৫. প্রোটিন খাবেন

স্বাস্থ্যকর প্রোটিন শরীরের জন্য ফ্যাট কমাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে স্বাস্থ্যকর ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে মেটাবলিজম যা ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। তা ছাড়াও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে এজন্য শরীরের কোনো জায়গায় ফ্যাট জমতে দেয় না। তাই আমাদের খাবারে উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা অতি প্রয়োজন।

৬. ঘন ঘন খাবার খান

খাবারের পরিমাণ না কমালেও ঘন ঘন খাবার খান এতে ফ্যাট বা চর্বি জমে না। বিশেষজ্ঞরা এই পরামর্শ দিয়ে থাকে যে খাবারের পরিমাণটা কমিয়ে দিয়ে ওই পরিমাণ খাবারই অনেকবার ভাগ করে ঘনঘন খান।

৭. নিয়মিত ব্যায়াম করুন

শরীরে ফ্যাট বা চর্বি কমানোর জন্য ব্যায়ামের বিকল্প অন্য কিছু হতে পারে না। যদিও এটি একটি কষ্টের বিষয় তবুও এটি ফ্যাট বা চর্বি খুব অল্প দিনে কমাতে অনেক সাহায্য করে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ঠান্ডা পানি খেয়ে ব্যায়াম করা অতি জরুরি।

প্রতিদিন নিয়মিত যদি ঠিকমতো দৌড়ানো হয় ও পেটের ব্যায়াম করা হয় তাহলে চর্বি খুব অল্প দিনেই কমে যাবে। শুধু চর্বি নয় ব্যায়াম করলে শরীর অনেক ভালো থাকে রোগ ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ব্যায়াম করলে শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকে।

অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে ব্যায়াম শরীরের মেটাবলিজম অনেক বেশি বৃদ্ধি করে হলে অতিরিক্ত ক্যালোরি ঝরিয়ে দেয় এতে করে শরীরে কোনো ফ্যাট জমতে পারে না। তবে মেয়েদের অল্প দিনে যাদের বাচ্চা হয়েছে তাদের ব্যায়াম না করাই ভালো।

তবে কিছু কিছু ব্যায়াম করতে পারবেন। সেগুলো অবশ্যই ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে, সে অনুযায়ী ব্যায়াম করতে হবে।

৮. রাতে তাড়াতাড়ি খান

পেটের মেদ কমানোর জন্য বেশি রাত করে না খাওয়াই ভালো। রাতের খাবার 7:00 টার মধ্যে খেয়ে ফেললে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এর ফলে মেদ কমাতে অনেক দ্রুত সাহায্য করে। আর ছোটখাটো কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতে হবে।

৯. স্ট্রেস কমান

পেটের মেদ বেড়ে যাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা স্ট্রেসকে দায়ী করে থাকে। পেটের চর্বি জমা, ফ্যাট ও ওজন বৃদ্ধিতে স্ট্রেস এর ভূমিকা রয়েছে। তাই নিজের পুরোনো ছবিগুলো নিয়ে ভাবনা এবং সে অনুযায়ী সময় কাটান তাহলে স্ট্রেস লেভেল অনেক কমে যাবে! যা মেদ কমাতে অনেক সাহায্য করে; ওজন বাড়তে দেয় না।

************ 

ওপরের এই পেটের মেদ কমানোর সহজ উপায় গুলো যদি আপনারা যথাযথভাবে মেনে চলেন খুব অল্প টাইমই আপনাদের মেদ বা ফ্যাট এবং চর্বি কমে যাবে। লেখায় যদি কোনো ভুল ত্রুটি হয় তাহলে ক্ষমা করে দেবেন। আপনারা সবাই ভালো থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here