নিম পাতার উপকারিতা

আসসালামু আলাইকুম,আজকে আমরা নিম পাতার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক।

নিম পাতা প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় নিম গাছ বেশি দেখা যায়। ভেষজ চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যবহার বহুল। নিমের বৈজ্ঞানিক নাম – AZADIRACHTA INDICA

নিম ঔষধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস, ফুল, ফল, তেল, বাকল, শিকল সবই কাজে লাগে। গ্রাম অঞ্চল এ দেখা যায় যে এলাকায় মহামারি হলে ঘরে নিম পাতা রাখে। ছোটদের ফক্স বা বসন্ত হলে নিম পাতা ঘরে রাখা হয়।

আবার নিম গাছের বাতাস থেকে জীবাণু মুক্ত থাকে এরকম কথা প্রচলিত আছে গ্রামে। এই যে প্রচলিত কথা থেকেই বুঝতে পারা যায় নিমের ঔষধি গুণ। যাদের বাড়িতে নিম গাছ আছে তারা খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন।

[নিম পাতার সম্পর্কে সকল তথ্য এই ভিডিও থেকে নেওয়া।]

নিম পাতার উপকারিতা

নিমের সবচেয়ে বড় গুন হচ্ছে চর্ম রোগের জন্য। নিমের পাতা চর্ম রোগের জন্য খুব ভালো কাজ করে। জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে যেমন- ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস দুইটার জন্যই ভালো কাজ করে।

 

দেখা যায় ব্যাক্টেরিয়ার জন্য খুব ভালো মেডিসিন নেই। ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার জন্য ডাক্তার এর চিকিৎসার পাশাপাশি নিমের পাতা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। অনেক সময় ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকে। এই অ্যান্টিবায়োটিক এর সাথে নিমের পাতা সাপ্লিমেন্ট হিসেবে খেলে জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সাধারণত এখন বাজারে নিম পাতা, নিমের তৈরি তেল, ওয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায়।

১. মাথার খুশকি দূর করতে নিম পাতা

মাথায় খুশকির জন্য নিমের তেল ভালো। গোসলের আগে ১ ঘণ্টা নিমের তেল মাথায় লাগিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ভুলেও নিমের তেল খাওয়া যাবে না। এতে মারাত্মক সাইড ইফেক্ট হয় বিষক্রিয়া হয় শরীরে।

২. চর্ম রোগ দূর করতে নিম পাতা

নিমের তৈরি ওয়েন্টমেন্ট চর্ম রোগের জন্য অনেক ভালো। যেকোনো চর্ম রোগের জন্য এই ওয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা যায়। এই ওয়েন্টমেন্ট বাজারে পাওয়া যায় আবার ঘরেও তৈরি করা যায়। ঘরে তৈরি করার জন্য বাজারে যে ভ্যাসলিন পাওয়া যায় তা ব্যবহার করতে হবে।

১০০ গ্রাম মলম তৈরির জন্য ৯০ গ্রাম ভ্যাসলিন আর ১০ গ্রাম পিওর নিমের তেল একসাথে মিশিয়ে নিলে ওয়েন্টমেন্ট তৈরি করা যায়। এখন এই ওয়েন্টমেন্ট যেকোনো চর্ম রোগের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।

অনেক বাজারে ব্লাড পিওরপাওয়ার পাওয়া যায় যেমন- হাম রোগের সাফী, মোশাফির গ্রুপের মেডিসিন আছে যেগুলো চর্ম রোগের জন্য পাওয়া যায়। ব্লাড পরিষ্কার করার জন্য আমরা কিন্তু নিজের বাসায় ঔষধ তৈরি করে নিতে পারি।

এর জন্য আমাদের নিমের তাজা পাতা ১০ গ্রাম এর সাথে ৩ কাপ পানি দিয়ে গরম করতে হবে যতক্ষণ না ১ কাপ পরিমাণ পানি হয়ে যাচ্ছে। যখন ১ কাপ পানি হয়ে যাবে তখন এটা নামিয়ে চেকে নিতে হবে।

তারপর এটা ব্যবহার করা যাবে। অতিরিক্ত তিতার কারনে অল্প পরিমাণ চিনি মিশিয়ে ২/৩ বার খেতে পারে। এভাবে ১০-১৫ দিন খেলে রক্ত পরিষ্কার ও চর্ম রোগের জন্য খুব ভালো উপকার করবে।

৩. কৃমি দূর করতে সাহয্য করে

যাদের কৃমির সমস্যা আছে তারা নিমের ডাল দিয়ে যদি পাউডার বানিয়ে প্রতি সকালে খায় তাহলে ১ সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

*****

এ ছাড়া ক্যান্সার এর ক্ষেত্রে নিম পাতা অনেক ভালো কাজ করে। ক্যান্সার হচ্ছে যে কোষের অনিয়ন্ত্রিত ব্যতি। এই কোষের অনিয়ন্ত্রিত ব্যতিটাকে নিয়ন্ত্রিত করার জন্য নিম পাতা খুব ভালো কাজ করে থাকে।

জন্ডিস, ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস ইত্যাদির ক্ষেত্রে নিম পাতা অনেক ভালো কাজ করে থাকে। প্রতি সকাল আর রাতে আধা চামচ করে নিমের ছালের তৈরি গুড়ো খেলে কোনো ভাইরাস শরীরে আক্রমণ করতে পারবে না।

এভাবে নিম এর পাতা, ডাল, রস, ফুল, ফল, তেল ইত্যাদি আমাদেরকে অনেক হেল্প করে থাকে।

নিমের গুণ অনেক যা বলে শেষ করা যাবে না। নিমের পাতা আমাদের জন্য অনেক গুরুন্তপূর্ণ। নিমের গুরুত্ব অপরিসীম।

এধরনের আরও নতুন নতুন হেলথ টিপস পেতে আমাদের সাইটে চোখ রাখুন। 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here