দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা!

#দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা: আসসালামু আলাইকুম আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন। আল্লাহর রহমতে আমি অনেক ভালো আছি। আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা কী কী সে বিষয়ে! দাউদ শরীরের যেকোনো অংশে হতে পারে। তবে যেখানে সূর্যের আলো পড়ে না এবং যে জায়গাটা সব সময় ঢাকা থাকে সাধারণত সেখানে এটি বেশি হয়ে থাকে।

দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা

দাউদ এক ধরনের ফাংগাল ইনফেকশন। ইংরেজিতে একে রিংওয়ার্ম বলা হয়। এটি একটি সাধারণ রোগ। বয়স্ক এবং শিশু উভয় এর এই রোগ হতে পারে। এটি হলে শরীরে অস্বস্তিকর চুলকানি এবং চুলকানির পর জ্বালা হয়। ডাক্তাররা এই রোগকে টিনিয়া বলে। এটি মানুষ ছাড়া পশুদেরও হতে পারে। এই ভাইরাস সাধারণত ছড়ায় বাড়ির সেখানে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ থাকে যেখানে আলো-বাতাস কম লাগে এবং সূর্যের আলো পড়ে না সেখানেই ফাঙ্গাস ছত্রাকের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। এখন আমরা ধাপে ধাপে দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

দাউদ এর উপসর্গ

এটি সাধারণত ত্বকের এক ধরনের রোগ। ত্বকের যে স্থানে দাউদ হয় সেখানে কিছু জায়গা জুড়ে গোলাকৃতির মত হয়। গোল আকৃতির মাঝখানে পরিষ্কার থাকে কিন্তু গোল আকৃতির গোল রেখা তে শুষ্ক এবং খরখরে হয়। ওই গোলাকৃতির মাঝখানে কোনো রকম সংক্রমণ দেখা যায় না।

যেখানে সংক্রমিত হয় সেখানে প্রচুর চুলকানি হয়। ভালো ডক্টরের পরামর্শ না নিলে সংক্রমণ বেড়ে যায় এবং গোলাকৃতি চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। তা ছাড়া এ রোগের এই উপসর্গ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা যায়। দাউদ এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলোর একটি লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

১. এটি প্রথম অবস্থায় দুই পায়ের মাঝে কুকচিতে লাল লাল ভাব দেখা যায়।
২. তারপর আস্তে আস্তে চুলকানি শুরু হয় এবং গোলাকৃতি নিয়ে বড় হতে থাকে।
৩. গোলাকৃতির গোল সীমানা উঁচু হয় এবং শুষ্ক ও খসখসে হয়ে থাকে।
৪. গোল সীমানা অনেক চুলকায় এবং এর জায়গা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
৫. গোল সীমানা টি সাধারণত লাল বর্ণের হয়ে থাকে। তাছাড়াও খয়রি ও ধূসর বর্ণের হয়।
৬. অনেকগুলো গোলাকার জায়গা মিলে এক হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৭. এটি পায়ের কুচকি থেকে নিতম্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৮. অনেক সময় সংক্রমিত স্থানের আশেপাশে ফোড়া হয় এবং অনেক পুজ হয়।
৯. সংক্রমিত স্থানে অনেক চুলকানি হয় এবং খোসা ঝরে পড়ে।
১০. পায়ের পাতা সংক্রমিত হলে আঙ্গুলের মাঝে এবং পায়ের পাতার মাঝখানে শুকিয়ে যায়।
১১. সংক্রমিত স্থানের চামড়া ফেটে যায় এবং অনেক রক্তক্ষরণ হয়।
১২. পায়ের আশেপাশে পুজ ভর্তি করা হয এবং পায়ের আংগুল থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।
১৩. এক বা একাধিক আঙ্গুলে প্রভাবিত হয় এবং চুলকানির মাধ্যমে চামড়া খসে পড়ে।
১৪. দাড়ি বা গোঁফ এ সংক্রমিত হলে গোফের নিচে বা দাড়ির নিচে চামড়া ফুলে যায় এবং লাল বর্ণের হয় এবং চুল প্রচুর চুলকায় ও সাদা পানি ঝরে।
মাথায় সংক্রমিত হলে মাথার চুল পড়ে যায় এবং চামড়া খসখসে হয়ে যায়।
১৫. হাতের তালু শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় এবং হাতের পিছনে গোলাকার ভাবে সংক্রমিত হয়।
১৬. দাড়ি বাগবান নিচে চুলকানির মাধ্যমে ওই সংক্রমিত জায়গার আশেপাশে পোজ যুক্ত ফোড়া হতে পারে।

দাউদের চিকিৎসা

দাউদের সংক্রমণ রোধে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে যাতে সংক্রমণ আর বাড়তে না পারে। সংক্রমণের হার অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এবং ডাক্তারের দেওয়া বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হবে।

ডাক্তারের দেওয়া এন্টিফাঙ্গাল ঔষধগুলো নিয়মিত নিতে হবে এই ঔষধ ফাংগাল ভাইরাস রোধে কাজ করে থাকে। সাধারণত এন্টিফাঙ্গাল মলম বা পাউডার হিসেবে পাওয়া যায় এগুলো দুই থেকে চার সপ্তাহ নিয়মিত নিলে এই সংক্রমণ অনেকটা কমে যায়।

এই এন্টিফাঙ্গাল মলম বা পাউডার গুলো হল: কোট্রিমাজল, ফাঙ্গিসন, টারবিনাফিন, কেটোকোনাজল, মিকোনাজল, এবং সাইক্লোপিরক্স

যখন দাউদ সংক্রমণ অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে তখন এন্টিফাঙ্গাল পাউডার বা মলম এর পাশাপাশি কিছু খাওয়ার ওষুধ ও সেবন করতে হয়।

অতিরিক্ত সংক্রমনের ফলে ঔষধ সেবন না করলে সংক্রমণ কমে না। এক থেকে তিন মাস নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার ফলে সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। মাথায় সংক্রমনের ফলে এন্টিফাঙ্গাল শ্যাম্পু পাওয়া যায় যেটা দিয়ে নিয়মিত মাথার চুল শ্যাম্পু করতে হয়।

সেবনের এন্টিফাঙ্গাল ওষুধগুলো হলো: গ্রিসেওফুলভিন, টারবিনাফিন, ইট্রাকোনাজল, এবং ফ্লুকোনাজল ইত্যাদি।

সঠিকভাবে ওষুধ খাওয়া এবং মলম লাগানোর পরে নিজেকেও কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। যেমন ক্ষতস্থানে হাত দেওয়ার পর সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলা, স্যাঁতস্যাঁতে শ্যাওলা যুক্ত স্থানে কম যাওয়া, পরিষ্কার কাপড় পরা এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।

ওপরে দাউদ এর লক্ষণ ও চিকিৎসা আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনায় কোনো ভুল থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here