চুল গজানোর উপায়

#চুল গজানোর উপায়: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমি অনেক ভালো আছি। চুল আমাদের শরীরে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। আজকে চুল গজানোর উপায় নিয়ে বলব। চুল মানুষের সৌন্দর্যের একটি বিশেষ অংশ।

কিন্তু অনেকের বংশগতভাবে অথবা বিভিন্ন রোগের কারণে মাথা থেকে চুল ঝরে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে তা আর গজায় না। এতে সবাই অনেক চিন্তিত থাকে। অনেকের অল্প বয়সে চুল পড়ে যায়; আবার অনেকের বয়স হওয়ার পর চুল ঝড়ে পড়ে।

চুল গজানোর উপায়

চুল ঝড়ে পড়ার কারণে মাথা টাক হয়ে যায়। এ জন্য ওই মানুষটিকে অনেক জায়গায় ছোটো ও অপমানিত হতে হয়। কিন্তু কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে আবার পুনরায় চুল গজানো সম্ভব। তাই আমরা আজ আলোচনা করব চুল গজানোর উপায় নিয়ে।

১. ভিটামিন গ্রহণ

সাধারণত ভিটামিন এর অভাবে চুল পড়ে যেতে পারে। তাই ভিটামিন ই দিয়ে নিয়মিত মাথা ম্যাসেজ করতে হবে। নিয়মিত মাথা ম্যাসেজ করার ফলে মাথায় রক্তসঞ্চালন ঠিকমতো হবে এর ফলে স্ক্যাল্প বেড়ে যাবে। ভিটামিন ই চুলের নিউট্রিশন যোগায়। আপনি চাইলে ভিটামিন ই এর সাথে চা মিশিয়ে নিতে পারেন।

তারপর আঙুল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ৫ – ৬ মিনিট ধরে ভালো করে ম্যাসেজ করুন। তারপর মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন যাতে চুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা হয়ে থাকে।

তারপর কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল গজানোর জন্য এই ম্যাসেজ দিনে তিনবার করতে হবে। তবে প্রতিবার শ্যাম্পু করা যাবে না তিনবার যদি মেসেজ করেন শেষের বার, একবার শ্যাম্পু করলেই হবে।

২. ডাক্তারের বলা শ্যাম্পু ব্যবহার করা

এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে যেটা ব্যবহার করলে মাথার স্কাইপের মৃত কোষগুলি দূর হয়ে যাবে। এই মৃতকোষগুলো এর কারণে চুলের গহ্বর ব্লক হয়ে থাকে এর ফলে নতুন চুল গজাতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এ জন্য দিনে একবার শ্যাম্পু দিয়ে মাথায় কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি দিনে একবার করলেই হবে।

৩. ফলিকল উদ্দীপিত করা

চুলের গোড়ায় ফলিকল থাকে। ডাইভারশন এর মাধ্যমে ফলিকল আবার নতুন করে উদ্দীপিত করা যায়। বাজারে একটু খোঁজ নিলে ডাইভার্টিক ম্যাসেজ করার মেশিনটি কিনতে পাওয়া যায়।

ডাইভার্টিক মেশিন দিয়ে মাথার স্ক্যাল্পগুলোকে সতেজ করা যায়। এবং মৃত স্ক্যাল্প গুলো দূর করা যায়। এ জন্য যেখান থেকে মাথার চুল বেশি পড়ে গেছে সে দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। প্রতিদিন নিয়মিত ডাইভার্টিক ম্যাসেজ দিয়ে ম্যাসেজ করতে হবে। এটাও প্রতিদিন পাঁচবার করা উচিত। তাহলে স্ক্যাল্পের ঘরগুলো পাকা হয়ে যায় এবং চুল গজাতে শুরু করে।

৪. প্রোটিন জাতীয় খাবার গ্রহণ

আমাদের চুল ক্যারোটিন দ্বারা গঠিত। এ জন্য আমাদের প্রতিদিন প্রোটিন নেওয়া প্রয়োজন। এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড নামক অ্যাসিড দিয়ে গঠিত হয়। তাই আমাদের প্রতিদিন প্রোটিনযুক্ত খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

যেমন মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মটরশুটি ইত্যাদির যেকোনো একটা প্রতিদিন আপনার খাবার তালিকায় রাখা প্রয়োজন। এগুলো আপনার শরীরে এমিনো এসিড সরবরাহ করতে সাহায্য করবে এর ফলে নতুন করে চুল গজাতে শুরু করবে।

৫. ভিটামিন সি গ্রহণ

চুল গজানোর জন্য নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করা অতি জরুরি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছেন লেবু, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, কাঁচা মরিচ, কমলা, আনারস ইত্যাদি। এগুলো প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে আপনার গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা হলে চুল গজাতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

৬. কালিজিরা খাওয়া

কালোজিরা মাথার চুল গজানোর জন্য খুবই উপকারী একটি জিনিস। তাই প্রতিদিন কালোজিরা শুধু শুধু খাওয়া প্রয়োজন অথবা খাবারের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন কালোজিরা খাওয়া দরকার এবং কালোজিরার তেল নিয়মিত মাথায় ব্যবহার করা প্রয়োজন। এটি চুল গজাতে অনেকটা হেল্প করে।

৭. নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা

নিয়মিত চুল পরিষ্কার করা ও আঁচড়ানো উচিত। তবে অতিরিক্ত আচঁড়ানো যাবে না। অতিরিক্ত আঁচড়ানোর ফলে চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।

৮. পেঁয়াজের রস ব্যবহার

নিয়মিত পেঁয়াজের রস মাথায় 15 মিনিট করে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে করে নতুন চুল গজায়।

৯. মেহেদি পাতা ব্যবহার

মাঝে মাঝে মাথার চুলে মেহেদি বেটে লাগিয়ে রাখুন এবং কিছুক্ষণ পর আবার ধুয়ে ফেলুন। এতে যে চুলগুলো আছে এর গোড়াগুলো অনেক মজবুত থাকে, চুল পড়া কমিয়ে দেয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

১০. আমলকি ব্যবহার

শুকনা আমলকি পানিতে ভিজিয়ে সেটা মাথায় লাগাতে পারেন। এতে চুল গজাতে অনেক উপকার হয়। নিয়মিত কালোজিরা বা তিল এর তেল এগুলো বেশি বেশি চুলে ইউজ করার চেষ্টা করুন।

*********

এভাবে নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে থাকুন তাহলে অবশ্যই নতুন চুল গজানো শুরু করবে। তাই কখনো অবহেলা করবেন না। ওপরে যে নিয়মগুলো পড়লেন সেগুলো প্রতিদিন যথাযথভাবে মেনে চলুন।

তাহলে মাথায় অবশ্য নতুন চুল গজানো সম্ভব। কষ্ট করলে কেষ্ট মিলে। তাই যদি নিয়মিত কয়দিন কষ্ট করেন, যত্ন নেন, অবশ্যই সফল হবেন। তবে বিভিন্ন কসমেটিক্স প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাথায় কোনো ঔষধ বা মলম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

ওপরে আপনারা চুল গজানোর উপায় গুলো পড়লেন। আশা করি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে ভবিষ্যতে আরও এরকম টপিক নিয়ে আলোচনা করতে পারি। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দেবেন। আসসালামু আলাইকুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here