চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায়!

#চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায়: আসসালামু আলাইকুম। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আপনাদের থেকে দোয়া ও ভালোবাসা আশা করছি। চুল আমাদের শরীরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। তাই চুলের যত্ন নেয়া আমাদের অতি জরুরি। তাই আজকে চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায় নিয়ে কথা বলব।

অনেক মানুষের যত্নের অভাবে মাথার চুল পড়ে যায় এবং চলে নানা ধরনের সমস্যা হয়। ঠিকমতো যত্ন না নেওয়ার কারণে চলে খুশকি ও আঠা ভাব হয়ে থাকে।

নারীদের জন্য চুল অনেক বেশি প্রয়োজন। সুন্দর চুল নারীর সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমাদের সবারই আশা থাকে বড়ো বড়ো লম্বা চুল। কিন্তু আমাদের যত্নের অভাবে চুল হয়ে ওঠে শুষ্ক ও রুক্ষ এবং এই শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের ভিতরে চিরুনি দিয়ে চুল পড়তে থাকে এবং চুলের আগা ভাঙতে থাকে এর ফলে চুলের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।

বর্তমানে প্রায় অধিকাংশ মানুষেরই চুলপড়া রোগে ভুগছেন। কারও কারও বিভিন্ন রোগের কারণে চুল পড়ে। আবার কারও কারও রাসায়নিক মিশ্রিত শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে চুল উঠে যায়। অনেকের চুলে অতিরিক্ত হিট দেওয়ার ফলে চুল উঠে যায়।

চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায়

বিভিন্ন মানুষের চুল বিভিন্ন কারণে উঠে যায় তাই বিভিন্ন ধরন ভেদে চুলের যত্ন নিতে হবে। মাসে একবার চুল যত্ন নিলে হবে না। চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন চলে ঠিকমতো যত্ন নেওয়া তাহলে চুলের যেকোন সমস্যা থেকে দূর করা সম্ভব হবে। তাই আজ আমরা আলোচনা করব চুলের যত্ন কীভাবে নেবো এই বিষয়ে। চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. মাথা আঁচড়ানো

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথায় চিরুনি দিয়ে চুল ভালোভাবে আঁচড়াতে হবে। কারণ ঘুমানোর ফলে চলে অনেক সময় জোট বেঁধে থাকে জোট বেঁধে থাকলে চলতে থাকে তাই মাথা আঁচড়াতে হবে।

২. চুল ধোয়ার অভ্যাস

চুল প্রতিদিন ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। যাদের নরমাল চুল তারা দু-একদিন পরপর ধুলেও হবে। কিন্তু যাদের চুল তৈলাক্ত তাদের প্রতিদিন ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

৩. ভালো চিরুনি ব্যবহার করা

চিরুনি ভালো করে দেখে নিতে হবে যাতে চিরুনিতে বড়ো বড়ো দাঁত থাকে! বড়ো দাঁতের চিরুনি দিয়ে মাথার চুল আঁচড়ালে যত বাধা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৪. ভেজা চুল আঁচড়াবেন না

ভেজা চুল আঁচড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ভেজা চুল নরম থাকে এ অবস্থায় আঁচড়ালে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই নরম গামছা দিয়ে চেপে চেপে ভালো করে মুছে নিতে হবে।

৫. সঠিক শ্যাম্পু ব্যবহার

বুঝে-শুনে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত রাসায়নিক যুক্ত শ্যাম্পু ইউজ করা যাবে না। যে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল নরম ও মসৃণ থাকবে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।

৬. চুলে তেল ব্যবহার

চুলে তেল ব্যবহার করার অভ্যাস করতে হবে। কারণ তেল হলো চুলের প্রাণ। তেল নিয়মিত ব্যবহারের পরে চুল ঝরে পরা কমে যাবে, চুল মসৃণ ও নরম হবে এবং চুলের গোড়া অনেক শক্ত হবে।

৭. হালকা গরম তেল ব্যবহার

হালকা গরম তেল ব্যবহার করুন। হালকা গরম তেলে চুল বৃদ্ধি পায় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়।

৮. নারিকেল তেল ব্যবহার

চুলের দ্রুত উপকারের পেতে নারিকেল তেল ব্যবহার করা অভ্যাস করুন। নারকেল তেল চুলের জন্য খুবই উপকারী। পাশাপাশি আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার করুন। তা ছাড়াও অ্যালোভেরা হেয়ার প্যাক, টক দই হেয়ার প্যাক এগুলো চুলের জন্য খুব কার্যকারী। নারিকেল তেল চুলকে খুব ভাল মশ্চারাইজার করে।

৯. অলিভ অয়েল ব্যবহার

চুলে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা অভ্যাস করতে হবে। অলিভ অয়েলে রয়েছে এসেন্সিয়াল ফ্যাটি এসিড যা চুলের পুষ্টি যোগায়। তা ছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই চুলের বৃদ্ধিতে খুব ভালো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ভালো করে মাথায় অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে হবে এতে চুলের স্ক্যাল্প গুলো সতেজ হবে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।

১০. তিলের তেল ব্যবহার

তিলের তেল চুলের জন্য খুবই উপকারী। তিলের তেল চুলের কন্ডিশনিং এবং চুলের বৃদ্ধিতে খুবই সাহায্য করে থাকে। এ ছাড়াও খুশকি কমাতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত তিলের তেল ব্যবহার করার অভ্যাস করার পরামর্শ রইল।

১১. ডিম ব্যবহার

চুলের উপকারের জন্য ডিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের কুসুমে থাকে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট যা চুলের কন্ডিশনিং করতে সাহায্য করে। ডিমের প্যাক বানানোর জন্য ডিমের কুসুমের সাথে, অ্যালোভেরা জেল চার চামচ এবং অলিভ অয়েল তিন চামচ একসাথে মিশিয়ে ভালো করে প্যাক বানিয়ে নিতে হবে এবং চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত লাগিয়ে নিতে হবে।

আরেকটি সাভার কাপ দিয়ে ঢেকে 25 মিনিট মতো রেখে তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। অনেকে ডিমের গন্ধ সহ্য করতে পারে না তাই কষ্ট করে হলেও সপ্তাহে একদিন করার চেষ্টা করুন। এতে চুলের অনেক উপকার হবে।

১২. দই ব্যবহার

চুলের জন্য দই ব্যবহার অতি জরুরি। হেয়ার প্যাক বানানোর জন্য দইয়ের সাথে মধু এবং লেবুর রস মিলিয়ে ঘন প্যাক তৈরি করে চুলের স্ক্যাল্পে ও চুলে লাগিয়ে আধা ঘন্টা রেখে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি সপ্তাহে দুই বার করলে চুল অনেক মসৃণ এবং চুল বৃদ্ধি পাবে।

১৩. পেঁয়াজ ব্যবহার

পেঁয়াজের ব্যবহার ত্বক ও চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি চুলে টনিকের কাজ করে। এ ছাড়া পেঁয়াজে আছে সালফার যা চুলপড়া বন্ধ করে এবং নতুন চুল গজাতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পেঁয়াজের প্যাক বানিয়ে চুলে নিয়মিত লাগাতে হবে। প্যাক বানানোর জন্য একটি আস্ত পেঁয়াজ ভালো করে ব্লেন্ডার করে পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে।

তারপর দুই চামচ শিকাকাই পেস্ট এবং দুই চামচ কাঠ বাদামের তেল নিয়ে একসাথে মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালভাবে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। পরে শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে এর ফলে চুলের শুষ্কতা কমবে চুল মসৃণ এবং সুন্দর হবে। তাই নিয়মিত পেঁয়াজ ব্যবহার করার অভ্যাস করুন।

************

প্রিয় পাঠক, এই ছিল চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায়! আপনারা যদি নিয়মিত ওপরের এই চুলের যত্ন নেওয়ার ঘরোয়া উপায় গুলো মেনে চলতে পারেন, তাহলে অল্প দিনেই আপনারা ফল বুঝতে পারবেন। এই পদ্ধতিগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে আপনার চুলের যেকোনো সমস্যা দূর হয়ে যাবে, নতুন চুল গজাবে এবং চুল পড়া কমে যাবে, চুল অনেক সুন্দরও থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here