আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

# আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম: আসসালামু আলাইকুম, আজকে আপনাদেরকে আদার কিছু তথ্য জানাব। আদার অনেক ঔষুধি গুণ রয়েছে। আমরা যুগ যুগ ধরে মসলা হিসেবে আদা ব্যবহার করি। আমরা আজকে আলোচনা করব আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।

আমরা সাধারণত বেশিরভাগ সময় কাঁচা আদা ব্যবহার করি। ঘরোয়া প্রক্রিয়াতে কীভাবে কাঁচা আদা দিয়ে উপকার পাবেন তা নিয়ে কিছু কথা আপনাদেরকে বলব।

আদার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

 

আদার সবচেয়ে বড়ো গুণ হচ্ছে পরিপাক শক্তিকে বাড়ায় মানে ডাইজেস্ট করার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। ভাত খাবার আগে যদি এক টুকরা আদা লবণ দিয়ে খান তাহলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে আর রুচিহীন ভাব চলে যাবে। এটা আদার একটা বড়ো গুণ। তাই ভাত খাওয়ার আগে এভাবে আদা খান।

আদার উপকারিতা

আদা লিভারের ওপরেও কাজ করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা আমাদের রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর ফলে আমাদের দেহে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস কম আক্রমণ করতে পারে।

আদা কাশির ঔষধ

আদা কাঁশির ক্ষেত্রেও খুব ভালো কাজ করে। যাদের কাঁশির সমস্যা আছে তারা আদার রস এর সাথে মধু মিশিয়ে খেলে খুব ভালো ফলাফল পাবেন। আদা ব্যাক্টেরিয়া প্রতিরোধ এ ভালো কাজ করে এ কারণে যাদের গলা ব্যথা আছে তাদের ক্ষেত্রে আদার রস ভালো কাজ করে। যাদের টনসিলে সমস্যা তারাও আদার রস খেতে পারেন। ছোটোদের ক্ষেত্রে অল্প আদার সাথে মধু ও তুলসী পাতা দিয়ে খেলে কাঁশি বা কফ চলে যাবে। যাদের ঠান্ডায় সমস্যা আছে তারা আদা খেলে চলে যায়।

আদার অপকারিতা

এখানে আদার একটা সাইড এফেক্টও কিন্তু আছে। যারা উষ্ণ প্রকৃতির মানুষ তাদের জন্য আদা ক্ষতি করে থাকে! অনেক সময় কণ্ঠতেও সমস্যা হতে পারে। সাধারণত আদার রস সর্বোচ্চ ২ – ১২ গ্রাম ব্যবহার করা যায়। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে যে অল্প ডোজ ব্যবহার করতে হবে। আদা ছোটো-বড়ো সকলেই খেতে পারে।

বমি দূর করতে আদা

অনেকে আছে যারা গাড়ি চালানোর সময় / ভ্রমণের সময় বমি বমি ভাব হয়! তারা তখন একটু আদা খেলে সেই ভাব চলে যায়। আদা অনেক ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। যেমন- শ্বাস – প্রশ্বাস এর সমস্যার ক্ষেত্রে, হজম এর ক্ষেত্রে, লিভারের ক্ষেত্রে, ইত্যাদি। আদা অনেক উপকারী।

বাতের ব্যথা দূর করে আদা

যাদের বাতের ব্যথা আছে তারাও কিন্তু আদা খেতে পারেন। আদার রস গরম করে ছেঁক দিতে পারেন। আবার আপনারা ৫০ মি. লি. আদার রস, ৫০ মি. লি. রসুনের রস, আর ২০০ মি. লি. সরিষার তেল দিয়ে হাল্কা গরম করে (মনে রাখবেন তেল যেন পুড়ে না যায়) ব্যথার জায়গায় মালিশ করতে পারেন। দেশি আদা ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

চর্ম রোগের ওষুধ আদা

আদার আরেকটা গুণ হচ্ছে আদা চর্ম রোগের জন্যও কাজ করে। চর্ম রোগের জন্য আদা সকালে এক চামচ, রাতে এক চামচ খাওয়া যায়। আদার রস চর্ম রোগের জন্য ভালো কাজ করে।


অনেক ভেষজবিদ বলেন- যাদের কানে ব্যথার সমস্যা আছে তাদের জন্য আদার রস ভালো কাজ করে। আদার রস দুই ফোঁটা দুই কানে দিলে ভালো হয়; তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিলে আরও ভালো হয়।

অনেক বিজ্ঞানী গবেষণা করে দেখেছে যে, আদার মধ্যে কিছু উপাদান আছে যা ব্লাড ইয়েজার প্রবাহকে কমিয়ে ফেলে। যাদের ব্লাড ইয়েজার বেশি তারা আদার রস মেডিসিন হিসেবে এক চামচ করে সকাল ও রাতে খেলে তখন দেখা যাবে যে তাদের ইয়েজার কমে গেছে।

রোগ প্রতিরোধ যখন হয় শরীরের মধ্যে হয়, নিজস্ব ইমিউনিটি দিয়ে; শরীর যখন নিজেই প্রস্তুত থাকে; তখন রোগ থেকে শরীরকে সেইফ করা যায়।

আদা হজম এর ক্ষেত্রে, শ্বাস – প্রশ্বাস এর সমস্যার ক্ষেত্রে, লিভারের জন্য, চর্ম রোগের জন্য মোটামোটি ভালোই কাজ করে। তবে আদার সবচেয়ে বড়ো কাজ হচ্ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চা এর মধ্যে আদা দিয়ে খেলে খুব ভালো কাজ করে। আমরা যখন রং চা খাই, তখন যদি চায়ে একটু আদা দিয়ে খাই, তরকারি রান্না করার সময় আদা বাটা ব্যবহার করি; মানে আমরা সব কিছুর মধ্যে যদি আদা রাখার চেষ্টা করি, এতে আমাদের জন্য উপকার হবে।

আদার উপকারিতা অনেক! আদা আমাদের অনেক কাজে আসে। তাই, আমাদের উচিত সব কিছুতে আদা রাখা।

প্রিয় পাঠক, আজকের পোস্ট এই পর্যন্ত। এ ধরনের আরও পোস্ট পড়তে আমাদের সাইটে যুক্ত থাকুন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here